প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে
দখল দূষণে অস্তিত্বহীন প্রায় ২০০ বছর পূরনো দাগনভূঞা দাদনা খালের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে খালের সংস্কার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও অদৃশ্য কারনে শেষ হচ্ছে না উচ্ছেদ অভিযান।
গত ২৮ জানুয়ারী দাগনভুঞা উপজেলা, পৌর ও যৌথ বাহিনীর উদ্যোগে দাদনা খালের দাগনভূঞা অংশের দুই পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার পর পৌরসভার নির্ধারিত সীমানায় স্থাপনার নিচের অংশ উচ্ছেদ করলেও উপরের দিকের উচ্ছেদ থমকে গেছে।
এ ছাড়াও পৌর প্রশাসকের বেঁধে দেওয়া সীমানা মোতাবেক স্থাপনা উচ্ছেদ না করার অভিযোগও উঠেছে। যারা নিজ উদ্যোগে তাদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন তাদের অনেকের অভিযোগ পৌরসভা টাকা খেয়ে অনেক কে ছেড়ে দিচ্ছে। অনেকেই নিজ উদ্যোগে কারো অনুমতি না নিয়ে খালের উপর ব্রিজ নির্মান করেছেন যেগুলো একেবারেই সরু হওয়াতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়িয়েছে।
অবৈধ স্থাপনার সীমানা ও উপরের অংশ উচ্ছেদের বিষয়ে কয়েকজন ভবন মালিকের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে এক মাস সময় নিয়েছি কিন্তু ১ মাস অতিবাহিত হলেও উচ্ছেদ তৎপরতা নিয়ে গড়ি মসি লক্ষ করা যাচ্ছে।

যারা পৌরসভার নির্দেশ অনুযায়ী নিজ উদ্যোগে স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন তাদের দাবি, দাগনভূঞা পৌর সভার কার্য সহকারী শহিদ উল্লাহর মাধ্যমে টাকা পয়সার লেন দেন করে অনেক ভবন মালিক অবৈধ স্থাপনা রেখে দেয়ার পরিকল্পনা করছে।
দাগনভূঞা পৌরসভার কার্য সহকারী শহিদ উল্ল্যাহ কে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
গত ১৬ মার্চ দাদনা খাল খনন কর্মসূচি উদ্ভোদন করতে আসলে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, জবাবে, তিনি বলেন, উপরে নিছে অবৈধ স্থাপনা রাখার কোন সুযোগ নেই। খালের উপর থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
সময় দেয়া ও সার্বিক উচ্ছেদ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা উচ্ছেদ শুরু করার পর কিছু মালিক ১ মাস সময় নিয়েছিল, সময় শেষ হওয়ার পরও যারা এখনো অবৈধ স্থাপনা না সরানোর বিষয়টা আমরা দেখবো।
বহু বছরের পূরনো এই খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সংস্কার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমে দাগনভূঞা পৌরবাসীর মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছিল। এখন অনেকেই হতাশ হয়ে বলছেন এটাই বাস্তবতা, রাগব বোয়াল ও টাকার কাছে সবাই বিক্রি হয়ে যায়। তাই বার বার সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়।